দুর্ঘটনার শিকার রাবি ছাত্রী চেসি 'ক্লিনিক্যালি ডেড'
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর 'ক্লিনিক্যালি ডেড' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার মস্তিষ্ক কাজ করা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসকদের হতাশা ও পরিবারের আকুতি
চেসি ত্রিপুরার সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ফলে চেসির মস্তিষ্কে এতটাই মারাত্মক আঘাত লেগেছে যে তা ফুলে গেছে এবং ভেতরের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মস্তিষ্ক এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এই অবস্থা থেকে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, “চেসি ত্রিপুরা 'ক্লিনিক্যালি ডেড'। তার ব্রেন আর কাজ করছে না। চিকিৎসকেরাও আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় এখনও লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া ফিরে আসা সম্ভব নয় বললেই চলে।”

লাইফ সাপোর্টে জীবনযুদ্ধ
বর্তমানে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে চেসির ফুসফুসে শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়েছে, যার কারণে তার হৃদপিণ্ড ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ সচল আছে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীকে দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে না। অধ্যাপক খুরশীদ আলম আরও জানান, গত দুই দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি হাসপাতালে উপস্থিত আছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে একটি অটোরিকশার সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা। এই দুর্ঘটনায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।


