শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল

শিক্ষাপথ ডেস্ক
১৭ দিন আগে
১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল
১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক শেষে এই চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিলেছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল

পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিশাল এই আর্থিক চাপ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার এককালীন নয়, বরং তিনটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে।

News details square ads

পরিকল্পনা অনুযায়ী:

প্রথম ধাপ: আগামী অর্থবছর (১ জুলাই) থেকে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। এর জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: পরবর্তী সময়ে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।

তৃতীয় ধাপ: শেষ ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।

বেতন বৃদ্ধির হার ও নতুন কাঠামো

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের সুপারিশ ও পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের কমিটির খসড়া অনুযায়ী, সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। তবে বেতন বৃদ্ধির হার হবে চোখে পড়ার মতো:

সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার টাকায়।

সর্বোচ্চ মূল বেতন: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে, যা বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।

বাজার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন বছরের ব্যবধানে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে হঠাৎ করে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে না। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

নীতিনির্ধারকদের বৈঠক

সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনার পর এখন আর নতুন পে-স্কেল নিয়ে কোনো সংশয় নেই। আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী এই নতুন সুবিধার আওতায় আসবেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]