আসামে মুসলিমদের উচ্ছেদ: বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগ
ভারতের আসাম রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি এবং একাধিক ঐতিহাসিক মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনার নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সাথে, তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিদ্যমান সামাজিক সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখা অপরিহার্য।
উচ্ছেদের বিস্তারিত চিত্র
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, গত ১৮ অক্টোবর, রোববার, আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি রাজ্য সরকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের দিন, শনিবার, রাজ্যের তিনটি জেলায় আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। অর্থাৎ, মাত্র দুই দিনের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিরোধীদলীয় নেতা স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আরও জানান যে, এই উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি। তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪০০ বছরের পুরনো মাঞ্চা মসজিদ এবং গির সোমনাথ জেলায় প্রাচীন মসজিদ ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভারত সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় শুধু ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের ঘটনা মানবতা, আইনের শাসন ও সভ্য সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী। যে দেশেই, যে পক্ষের দ্বারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান—কোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারও পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’ তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন দেশের সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।


