শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

চিকিৎসকদের 'অমানবিক' শর্তের বেড়াজালে বাঁধার প্রতিবাদ: একযোগে সরব বুয়েট, ঢাবি ও চুয়েট

শিক্ষাপথ ডেস্ক
১ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসকদের 'অমানবিক' শর্তের বেড়াজালে বাঁধার প্রতিবাদ: একযোগে সরব বুয়েট, ঢাবি ও চুয়েট
চিকিৎসকদের 'অমানবিক' শর্তের বেড়াজালে বাঁধার প্রতিবাদ: একযোগে সরব বুয়েট, ঢাবি ও চুয়েট
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) কর্তৃক সম্প্রতি জারিকৃত নতুন এফসিপিএস প্রশিক্ষণ নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের শীর্ষ তিন বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা। চিকিৎসকদের জন্য এই নীতিমালাকে 'অমানবিক' আখ্যা দিয়ে আজ ৩ জুন (২০২৬) একযোগে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে বিসিপিএস-এর নতুন নীতিমালার বেশ কয়েকটি বিতর্কিত শর্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণকালীন দীর্ঘ ৫ বছর চিকিৎসকরা কোনো ধরনের ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করতে পারবেন না। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের পাশাপাশি আয়ের অন্যান্য উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকাকেও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, মেধাক্রমে শীর্ষ ১০০০-এর বাইরে থাকলে কোনো ভাতা দেওয়া হবে না এবং উৎসবভাতা বা অন্য কোনো আর্থিক প্রণোদনার সুযোগও বাতিল করা হয়েছে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত কর্মস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অন্তত দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে কাজ করা বাধ্যতামূলক, যেখানে ব্যক্তিগত বা পেশাগত সুবিধা বিবেচনার কোনো সুযোগ থাকবে না।

এমন কঠোর শর্ত আরোপের ফলে চিকিৎসকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা, পেশাগত সীমাবদ্ধতা ও মানসিক চাপের মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন চিকিৎসক এমনিতে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল শিক্ষাজীবন পার করে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য এই প্রশিক্ষণে প্রবেশ করেন। চূড়ান্ত সেই পর্যায়ে এসে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা, আয়ের সুযোগ এবং পেশাগত সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হলে তা দেশের উদীয়মান চিকিৎসকদের এই পেশার প্রতি নিরুৎসাহিত করবে এবং মেধাপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করবে। এটি একটি উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

News details square ads

"দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা অপরিহার্য"—এই মৌলিক সত্যকে সামনে রেখে বিতর্কিত ও অযৌক্তিক এসব শর্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বুয়েট, ঢাবি ও চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]