যশোর বোর্ডে বড় পদক্ষেপ: নিয়োগ বাণিজ্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৬ শিক্ষক চূড়ান্ত বরখাস্ত
.jpeg&w=3840&q=75)
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন জেলার অন্তত ১৬ জন শিক্ষককে তাদের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকা, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং দীর্ঘকাল কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ নানা অভিযোগে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। মূলত ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বরখাস্তের ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে।
দীর্ঘ শুনানির পর বোর্ডের চূড়ান্ত
সিদ্ধান্তশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দীর্ঘ ৫-৬ মাস ধরে তদন্তাধীন ছিল। বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ‘আপিল অ্যান্ড অরবিট্রেশন’ কমিটির শুনানিতে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এবং আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ মঞ্জুর করা হয়।

নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ
বরখাস্ত হওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উজ্জীবনী ইনস্টিটিউট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইকবাল আলম বাবলু। তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর নিয়োগ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে, খুলনার কয়রা চান্নির চক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কনোজ কুমার বাছাড়ের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ধার নিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদারদের চাপে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়েই তিনি স্কুল থেকে নিরুদ্দেশ হন। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তাকেও চূড়ান্তভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্যান্য শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান
বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে আরও রয়েছেন:
হেলাল উদ্দিন: সহকারী শিক্ষক, দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুল।
সঞ্জীব কুমার ব্যানার্জী: সহকারী প্রধান শিক্ষক, টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা।
মিলন কুমার রায়: সহকারী শিক্ষক, কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাইকগাছা, খুলনা।
রনি আক্তার: প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন সালেহ খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিনাইদহ।
রাজু আহম্মেদ: প্রধান শিক্ষক, এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাংনী, মেহেরপুর।
তদন্তে নির্দোষদের স্বপদের ফেরা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘মব কালচারের’ প্রভাবে কিছু শিক্ষক সাময়িকভাবে পদ হারলেও তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দুই-একজন শিক্ষক ইতোমধ্যে স্বপদে বহাল হয়েছেন। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অনিয়ম দূর করতে এই ধরনের প্রশাসনিক কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর
প্রাথমিকে জুলাইয়ের মধ্যে পঠন ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ: অবহেলায় শিক্ষকদের শাস্তির হুঁশিয়ারি
শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী সংস্কার: জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য ও আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: উত্তরপত্র ও সরঞ্জাম বিতরণে ঢাকা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা
কাল থেকেই শুরু প্রাথমিকের ছুটি, ৬ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব বিদ্যালয়
ব্রাইট স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যা: চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আর্থিক চাপ কমাতে অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় সিদ্ধান্ত
