শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

ব্রাইট স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যা: চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

শিক্ষাপথ ডেস্ক
১২ দিন আগে
ব্রাইট স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যা: চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
ব্রাইট স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যা: চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকায় ব্রাইট স্কুলের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের মাত্রাতিরিক্ত মানসিক নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার সইতে না পেরে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন এবং অধ্যক্ষ মো. মাইদুর রহমান জেমকে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্কুলে বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের মডেল টেস্ট চলছিল। অর্থনীতি পরীক্ষায় প্রস্তুতি ভালো না থাকায় সাবিকুন নাহার খাতায় কিছু আঁকাআঁকি করছিল। বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষিকার নজরে এলে তিনি খাতাটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ হাসান লিটনের কাছে পাঠান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর সাবিকুনকে দীর্ঘ সময় ধরে বকাঝকা করা হয় এবং কান ধরিয়ে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঘোরানো হয়। এমনকি তার অভিভাবককে স্কুলে ডেকে এনেও চরম অপমান করা হয়। এই তীব্র লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে স্কুল শেষে বাসায় ফিরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ওই শিক্ষার্থী।

সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। 'আমার বোনকে মারলি কেন?', 'হত্যার বিচার চাই', 'লিটনের বিচার চাই'—এমন নানা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে পুলিশ অবস্থান নেয়। কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, স্কুলের চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণেই ছাত্রীটি আত্মহত্যা করেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে এবং এ নিয়েই তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

News details square ads

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের আরও চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ সামনে আসছে। অভিভাবকরা জানান, সামান্য হাসাহাসির কারণেও শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টা পর্যন্ত কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অমানবিক শাস্তির নজির রয়েছে। কথায় কথায় টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। এমনকি স্কুলের নারী শিক্ষিকারাও তার দুর্ব্যবহার ও অপমান থেকে রেহাই পেতেন না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা। তাদের মতে, এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো বেসিক শিক্ষা দেওয়া হয় না, বরং ব্রেনের ওপর চাপ দিয়ে শুধু মুখস্থ করানো হয়। ফলে এখানকার শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের মতো ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায় না। পূর্বে এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যান নিজেকে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সখ্যের কথা বলে রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখাতেন বলে এক অভিভাবক অভিযোগ করেন।

এসব গুরুতর অভিযোগ এবং সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে ব্রাইট গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]