শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

প্রাথমিকে জুলাইয়ের মধ্যে পঠন ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ: অবহেলায় শিক্ষকদের শাস্তির হুঁশিয়ারি

শিক্ষাপথ ডেস্ক
২ দিন আগে
প্রাথমিকে জুলাইয়ের মধ্যে পঠন ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ: অবহেলায় শিক্ষকদের শাস্তির হুঁশিয়ারি
প্রাথমিকে জুলাইয়ের মধ্যে পঠন ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ: অবহেলায় শিক্ষকদের শাস্তির হুঁশিয়ারি
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়ার যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে কোনো শিক্ষার্থী যদি বাংলা ও ইংরেজি রিডিং পড়ার পাশাপাশি প্রাথমিক গণিত—যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করতে না পারে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংক্রান্ত খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ইনসেন্টিভ ও নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি

এই সার্বিক বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য डेली ক্যাম্পাস-এর মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, শিক্ষকদের কেবল জবাবদিহিতাই নয়, বরং ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃতও করা হবে।

News details square ads

প্রতিমন্ত্রী বলেন,

"আমরা যখন শিক্ষকদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণোদনা (ইনসেন্টিভ) দেবো, তখন দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন না করলে তো আর ইনসেন্টিভ পাওয়া যাবে না।"

এই লক্ষ্যে বর্তমানে একটি আধুনিক অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই নতুন ব্যবস্থার আলোকেই শিক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ইনসেন্টিভ কিংবা ডিসেন্টিভ (শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) নির্ধারণ করা হবে।

৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ও আইনি জটিলতা

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট ও প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৩২ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বড় সংকটটির মূল কারণ একটি চলমান আইনি মামলা। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে এই ঘাটতি মেটাতে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ববি হাজ্জাজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেহেতু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, তাই দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে ক্রমাগত আপিল করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে ইতিবাচক রায় পাওয়া যাবে। আইনি জটিলতা কেটে গেলেই এই ৩২ হাজার শূন্য পদ অবিলম্বে পূরণ করা হবে।

১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদান ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

প্রাথমিকে চূড়ান্ত নির্বাচিত হয়ে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী একটি সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষেই খুব দ্রুত কর্মস্থলে যোগদান করানো হবে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (ন্যাপ) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং শিক্ষক সংকট দূর করতে সরকারের বেশ কিছু দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষকদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এবং স্টার্টআপ ট্রেনিং কার্যকর করার জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যা বর্তমানে পরিকল্পনা ও পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিফট পদ্ধতি কমিয়ে একক শিফটে রূপান্তর করা এবং শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]