শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ৫% বরাদ্দের দাবি, প্রাথমিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বা তার বেশি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমান বাজেটের অপর্যাপ্ততা তুলে ধরে তারা বলছেন, কেবল বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বরং দুর্নীতি, অপচয় রোধ করে এর শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘শিক্ষা অধিকার সংসদ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বাজেট নিয়ে পরিচালিত এক মতামত জরিপের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন। জরিপটিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে ৬১.১ শতাংশ স্নাতক এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের।

প্রাথমিক ও আধুনিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার
জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী জিডিপির ৫ শতাংশ বা ততোধিক বরাদ্দের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষাকে। তাদের মতে, শিক্ষার মূল ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষায় কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরকেও বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের বাজার বিবেচনা করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রধান সুপারিশ হলো— অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি ও অপচয়
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোতে সরকার শিক্ষা খাতের গুরুত্বের কথা মুখে বললেও বাজেটে বরাদ্দ ছিল অত্যন্ত নগণ্য (জিডিপির ২ শতাংশ বা তার নিচে)।
জরিপে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতি, অর্থের অপচয়, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি এর সুষ্ঠু ব্যবহার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়নের প্রধান শর্ত।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক ও মাজহারুল ইসলাম।
শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর
শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ৫% বরাদ্দের দাবি, প্রাথমিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের
প্রাথমিকে জুলাইয়ের মধ্যে পঠন ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ: অবহেলায় শিক্ষকদের শাস্তির হুঁশিয়ারি
শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী সংস্কার: জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য ও আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: উত্তরপত্র ও সরঞ্জাম বিতরণে ঢাকা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা
কাল থেকেই শুরু প্রাথমিকের ছুটি, ৬ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব বিদ্যালয়
ব্রাইট স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যা: চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
