এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি: চলতি সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ, জানুন সংশোধিত নীতিমালার বিস্তারিত
.jpeg&w=3840&q=75)
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম অবশেষে গতি পাচ্ছে। সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারির পর এখন মাঠ পর্যায় থেকে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহের জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছ থেকে বদলি সংক্রান্ত সফটওয়্যার আপডেটের সবুজ সংকেত পেলেই চলতি সপ্তাহ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালার আলোকে বদলির সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা, তা জানতে ইতোমধ্যে টেলিটককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই টেলিটক তাদের সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিবেদন জমা দেবে। টেলিটক 'প্রস্তুত' বলে নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গেই মাউশি অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক চিঠি ইস্যু করা হবে। এর আগে গত ৬ মে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

সংশোধিত নীতিমালায় যা আছেনতুন এই নীতিমালায় স্কুল ও কলেজের সব স্তরের প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহকারী প্রধানদের বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। একজন শিক্ষক তার চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। বদলি হওয়া শিক্ষকের ইনডেক্স পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন কর্মস্থলে সম্পূর্ণ অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হবে। এছাড়া, সরকার চাইলে জনস্বার্থে যেকোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষককে বদলি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
আবেদনের শর্ত ও প্রক্রিয়াবদলির কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে শূন্যপদের ভিত্তিতে। মাউশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে এবং এর বিপরীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করবে। সমপদের শূন্যতা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকার নির্ধারিত সময়ে এই আবেদন গ্রহণ, আদেশ জারি ও যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা তাদের আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবেদন করবেন। যদি নিজ জেলায় কোনো পদ শূন্য না থাকে, তবে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় আবেদন করা যাবে। এর বাইরে, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের (সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান) জেলাতেও বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
যোগ্যতা ও অগ্রাধিকারের
মাপকাঠিনীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে তবেই একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। একইভাবে, একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকার পর তিনি পুনরায় বদলির আবেদন করতে পারবেন।
একটি শূন্য পদের বিপরীতে যদি একাধিক প্রার্থীর আবেদন জমা পড়ে, তবে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে নারী আবেদনকারী, বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গণনা করা হবে। প্রতিযোগী প্রার্থীদের কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে বর্তমান কর্মস্থলের কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্রের দূরত্ব মেপে অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করা হবে।
শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর
প্রাথমিকে জুলাইয়ের মধ্যে পঠন ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতের তাগিদ: অবহেলায় শিক্ষকদের শাস্তির হুঁশিয়ারি
শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী সংস্কার: জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য ও আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: উত্তরপত্র ও সরঞ্জাম বিতরণে ঢাকা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা
কাল থেকেই শুরু প্রাথমিকের ছুটি, ৬ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব বিদ্যালয়
ব্রাইট স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যা: চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আর্থিক চাপ কমাতে অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় সিদ্ধান্ত
