শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

১৮ ধাপের বেড়াজালে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন: ডিজিটাল যুগেও কাটেনি দীর্ঘসূত্রতা

শিক্ষাপথ ডেস্ক
৪ ঘণ্টা আগে
১৮ ধাপের বেড়াজালে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন: ডিজিটাল যুগেও কাটেনি দীর্ঘসূত্রতা
১৮ ধাপের বেড়াজালে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন: ডিজিটাল যুগেও কাটেনি দীর্ঘসূত্রতা
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও এখন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা দিচ্ছে সরকার। তবে একই ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহার করা হলেও মাসের শুরুতেই সরকারি কর্মীরা বেতন পেয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছে। একই পদ্ধতিতে অর্থ ছাড় করা সত্ত্বেও কেন প্রতি মাসে এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল সমস্যাটি আসলে ডিজিটাল প্রযুক্তির নয়, বরং বেতন প্রক্রিয়াকরণের দীর্ঘ ও আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনিক ধাপগুলোর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ইএফটিতে বেতন সম্পন্ন করতে মাত্র ৫টি ধাপ পার হতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি বিল সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয় সরাসরি তা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠিয়ে দেয়। বিপরীতে, বেসরকারি স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর পূর্বে মোট ১৮টি জটিল স্তর পার হতে হয়, যা সম্পন্ন করতে প্রতি মাসেই বিপুল সময় লেগে যায়।

মাউশির ইএমআইএস সেলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি শুরু হয় একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে। নতুন যোগদানকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়ার জন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে এমপিও আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এই আবেদন আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনুমোদনের পর মাউশিতে পাঠানো হয় এবং তৃতীয় ধাপে মাউশির এমপিও সভায় তা অনুমোদন পায়। এরপর চতুর্থ ধাপে ইএমআইএস সেলে এমপিও প্রসেসিং ও ইনডেক্স নম্বর দেওয়ার পর পঞ্চম ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি বিল সাবমিট করা হয়। ষষ্ঠ ধাপে এই তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় সরকারি ‘আইবাস++’ সিস্টেমে। সপ্তম ধাপে আইবাস থেকে তথ্য যাচাই শেষে তা পুনরায় মাউশিতে আসে এবং অষ্টম ধাপে ইএমআইএস সেলের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

News details square ads

জটিলতার সূত্রপাত হয় মূলত এর পরের স্তরগুলোতে। নবম ধাপে প্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি বিল সাবমিটের পর দশম ধাপে ইএমআইএস সেলে এমপিও-এর চূড়ান্ত হিসাব তৈরি করা হয়। একাদশ ধাপে এটি মাউশি থেকে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে দ্বাদশ ধাপে মন্ত্রণালয় থেকে বেতনের সরকারি আদেশ বা জিও জারি করা হয়। ত্রয়োদশ ধাপে জিও জারির পর এমপিও-এর তথ্য পুনরায় আইবাস++ এ পাঠানো হয় এবং চতুর্দশ ধাপে আইবাস থেকে তা মাউশির ডিডিও (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার)-এর কাছে যায়। পঞ্চদশ ধাপে ডিডিও’র আইডি থেকে এটি হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হলে ষোড়শ ধাপে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে তথ্য পাঠানো হয়। সপ্তদশ ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বেতনের অর্থ পাঠায় এবং সর্বশেষ বা অষ্টাদশ ধাপে স্থানীয় ব্যাংকগুলো শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান, ৩ থেকে ১৮ নম্বর ধাপ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ একটির ওপর আরেকটি সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ফলে মাসের যেকোনো একটি স্তরে বা কোনো কর্মকর্তার টেবিলে ফাইল সামান্য বিলম্বিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী সবকটি ধাপ পিছিয়ে যায়। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূলত মাত্র কয়েকটি সংক্ষিপ্ত ধাপ অনুসরণ করা হয়। সরকারি ইএফটির গতি ও প্রকৃতির সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ইএফটি প্রক্রিয়ার এই বিশাল বৈসাদৃশ্য থাকার কারণেই প্রতি মাসে বেসরকারি শিক্ষকরা বেতন পেতে পিছিয়ে পড়ছেন বলে জানান তিনি।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]